Monday, January 28, 2019

কপোতাক্ষ মধুমতী চিত্রা

আপাততঃ "কাজ" শেষ।

টুকরো টুকরো হাহাকার অবিন্যস্ত গেঁথে তুলছি আমি। ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বে-রূহ্ হাড়-সফেদ মালা অথবা জ্যান্ত পোঁতা শ্বেতপাথুরে কুয়ো।
জলজ জমিনে।
...
হৈমন্তিকী আবছায়ায় বাতাস।

ঠাহর পাচ্ছি দুটি বিরাট মলমল-ই ডানায় ভর করে ভেসে যাচ্ছে খুব চেনা সেই অবয়ব। উত্তর মুখারী গতি তে আমার অচেনা এক আলোর বন্ধু হয়ে।
নভঃ উঠোনে।

...
বিশ্বাস করুন

আমি কিন্তু দখিন মুখে ঠেলেছিলাম পারের নাও।
পারানির কড়ি দিয়েছিলাম গুনে গেঁথে।
...

কিন্তু তাঁর ডানায় যে প্রবল টান উত্তরা।

আসলে ওদিকে...

কপোতাক্ষ মধুমতী চিত্রা।

Wednesday, January 16, 2019

আদরবাসার হাহাকার!

কেবলমাত্র সুরূপার নয়, অরূপা এমনকি কুরূপারও অহর্নিশ জানো বুক ধুকপুক,
গোপনতম প্রত্যাশা হয়ে পাঁজর আড়াল জিরোয় একটি দুটি ইচ্ছে কুবকুব।

যতনচোঁয়া স্বর।
আদরী করতল।
মমতার্দ্র আঁখিদ্বয়।
যাঞ্চা আদরবাসার।

নিরম্বু নির্লজ্জ!

কানাকুয়োর ডাকে যেমন উমান পাও গাভীন গতরভার,
মনের মাগন বোলে তেমন ঠাহর হয় উন্মনা  ভেতরঘর।

সাধনে অগম্য সেতু।
বাঁধনে অদম্য সাধ।
রূপান্তে অবধ্য ঝড়।
আকাঙ্ক্ষা দয়িত বাঁধার।

অবাধ্য অভব্য !

তারপর?
ক্ষণিক রূপকথার রূপকার-কে ছোঁয় তীক্ষ্ণ দস্তুরী স্বরূপকাঠি।
চোখে ঠোঁটে ঘৃণা পেঁচানো সে মাড়িয়ে যায় অচ্ছুত কুরূপমাটি।

আ-শির অপমান
অকুণ্ঠ অকথ্য অবিশ্রাম।
আকণ্ঠ সম্বিত আসে রূপহীনার।

একলা আবার।
একলাটি আঁধার।
একলাই আধার।
আত্মভর।

রূপের হাটে পশরা সাজায় চামড়া বিকিকিনির ব্যাপারী ও হাটুরে।
সেখানে কবি জন্মায় শ'য়ে শ'য়ে।
সেখানে কবিতা জন্মায় পায়ে পায়ে।

এখানে এটা কিন্তু কোনওভাবেই কবির জন্মমুহূর্ত নয়।
এখানে এটা কিন্তু কোনওপ্রকারেই যথাযথ কবিতা নয়।
কিচ্ছুতেই নয়।

Thursday, December 27, 2018

সবটাই

পা বাড়ানোর আগে

উচ্চারিত সমস্ত শব্দময় বিগশপারদের জন্য রেখে যাই বুলাও নাচনেওয়ালী ডিজেওলা কিয়ক্স।
উচ্চকিত সমস্ত প্রশ্নময় বুকপকেটদের জন্য রেখে যাই ঝুটো উত্তরের ঢালাও মাইক্রো জেরক্স।

উল্লসিত সমস্ত ওয়াওআকীর্ণ ঠোঁটেদের জন্য রেখে যাই নিজ নিজ টপ ফ্লোরের ফিকে ধূসর পদার্থ।
উচ্ছ্বসিত সমস্ত গ্ল্যামবিকীর্ণ ম্যানেকুইনদের জন্য রেখে যাই গলে ঘুলে ঢলে যাওয়া জাস্ট যথার্থ।

পা বাড়াতে যেতেই

লবণহ্রদ ঠিকানার পোস্টকার্ড পড়ে আছে ঠিক অবোলা ভেজা রথের স্যাঁতস্যাঁতে "ছিনপেপার"।

পা বাড়ানো থামিয়ে

পূর্বাচলের সদ্যচেনা ফ্ল্যাটবাড়িরগুলোর পেছনে সূর্য গড়ালেই' হেমন্তের গোধূলি আড়বাঁশির ফুঁ ঢালে বুকের খাঁচায়।
বই দাদুর ছাদে ঝিলিমিলি'র দিকে চোখ ফিরে দাঁড়ালেই মেডুসা মতি কুয়াশা আতাল পাতাল ডুকরে তোলা চাদর বিছায়।

কয়েক লাখ নিশ্চিত একলা কদম।
আর বাবার গরম মুঠি।

"উদীয়মানের চাইতে অস্তমিত সূর্যের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকাটাই অধিকতর কাঙ্ক্ষিত মণি...সে যে তোকে সবটা দিয়ে গেল"।

Monday, September 24, 2018

সাঁকোটার ভাল নাম জীবন।

কখনো কখনো ঝোড়ো কুয়াশার পাগলাটে ঝাপটায় সাঁকোটা বেয়াড়া রকম দুলে ওঠে।
হাত আধেক দূরত্বের চিরচেনা ঋজু অবয়ব বড় বেশি টলমল দেখতে পাই।
মাথার ভেতরে বীভৎস বমি বমি ভয় ঝনঝন বেজে চলে।
গজ দুয়েক চাউনি সরালেই শ্রান্ত অথচ শান্ত একজোড়া স্থিতধী শক্ত চোখ নজরে আসে।
এক আধ টুকরো সাহস কুচি জমতে থাকে থিরথির বুকে।
দৃঢ় মুঠো তে আঁকড়ে রাখি সে দুয়ের প্রৌঢ় আঙুল গুলো।
এগিয়ে যাই তিন এক্কে এক এর অদ্ভুতুড়ে ধারাপাতি চলাচল নড়বড়ে পায়ে জড়িয়ে।
আগলাতে চাওয়া চতুর্থ এক অস্তিত্ব টের পাই ঘাড়ের গায়ে পিঠে। সে উষ্ণ পরশ বোলায় পাশে আছি রকমে।
আরেকটু এগিয়ে যাই। আরেকটু ঘন পায়ে।

সাঁকোটার ভাল নাম জীবন।

মরণ ও অন্যান্য।

মরণ ও অন্যান্য।
এক
মৃত্যু আমাদের চারপাশে পায়চারি করে। আসে যায়, ফের আসে যায় ফের...
সাধারণের জমাট শোকের উঠোন বাগান রবি বাবুর সেই গন্তব্যাভিমুখী রেলপথের পাশের অনবরত অপসৃয়মান মাঠচত্ত্বরের মত উদাসী জোৎস্নায় ভাসে না। আবলুশের পারা অন্ধকার গিলতে আসে তাদের। তাঁর মত সংহত চিত্ত, স্থৈর্য, অন্তর্দৃষ্টি এবং গভীর সত্যোপলব্ধিও সকলের থাকে না। তবে এই ছাপোষা গেরস্তের বুকভাঙা অবুঝ শোক গলানোর উপায় কী?

নদী।

নদী না মেলে তো খাল বিল যেকোনো জলাশয়। গভীর ও ছলছল, নির্বাক ও সবাক।
আসলে জল। অনেকটা, অনেকটা জল। একইসঙ্গে অনেকখানি বিছিয়ে থাকা ও অনেকখানি রিক্ততা। গহীন ঘন চলিষ্ণু বুকের উপরে দিগন্ত স্পর্শী শূন্যতা প্রসারে জলাশয় আমার আপনার মত আকস্মিকতায় থতিয়ে গুম পাঁচপেঁচিকেও তিরিতিরি ভাবনার ঢেউ দেয়। নিজেদেরই অনবধানতায় স্বজনহৃত আমরা আগল খুলে দেই শোকগ্রস্ত বুক কপাটের। হুহু করে উথলে আসে শোকেদের শ্রাবণী ঝোরা।  মনের দোর পেরিয়ে ওই, ওই জলের ঘরে দোরে উঠোনে শ্রান্ত গা এলায় তারা।
ভারী থেকে আরও ভারী হয়ে চলা মনের ভার গড়াল দেওয়া কাঁসার ঘড়ার চলনে গড়িয়ে যায় নিঃসাড়ে।

এক সময় বুঝতে পারি, যে গেছে, সে গেছেই। পায়েলের আংটা ছুটে গেছে তার বরাবরের মত। হারে পাশায় বাজু আর নাকফুলে জড়িয়ে মড়িয়ে বেঁচে থাকার দলভুক্ত এখনও আমরা কয়জনা এপারে দাঁড়িয়ে আছি অদেখা কিন্তু অনুভূত একাধিক পায়ের মলের ঝিনিঝিনির তীব্র টানে। অলঙ্ঘ্য নয় কিন্তু আপাতত দূরতিক্রম্য সেই অলীক বীথি সরে সরেই রয়ে গেল আপাতত।

আর এদিগরে রোজনামচার সাপ লুডো ছকে ঘরগুলোতে রয়ে গেছে যারা, মন বুঝ মানে, ঘরে ফিরতে হবে তাদেরই আগলাতে।

ধ্যাত্তেরিকা!

গুটগুটি বেলায় একবার জন্মদিনের উপহার হিসেবে প্যাস্টেল আর ওয়াটার কালারের সেট এর সঙ্গে পাওয়া পেন্সিল বক্সের মধ্যে পেন্সিল, শার্পনার, খানদুয়েক ব্রাশ ছাড়াও ছিল ব্রুমওয়ালা মুসাম্বি গন্ধী ইরেজার আর মজাদার টিউবে ভরা ঝিমঝিম গন্ধওয়ালা সোনা রঙের আঠা।

আজকাল কি মেলে সেই ভুটানি গিফট বক্স?
খুবই মেলে তবে ভুটানি নয়, চীনেটাই মেলে। 

কাগজ তা সে সাদাই হোক কী রংদার, টিউবের পেট টায় অল্প অল্প চাপ আর কাগজ যেন বিন্দু বিন্দু রূপকথার আস্তানা নিমেষে। ওহ্, একটা কথা বলে রাখি, ওপর থেকে সিধে কড়কড়ে রকমে দিদিমণিদের মত করে দেখলে সেসব ঘণ্টা বুঝবে, মাটিতে কাগজ রেখে উব্বুত হয়ে শুয়ে, চাইতে হবে নাকটা কাগজের কিনারায় আলতো ছুঁইয়ে।

আজকাল কি কেউ শোয় সেভাবে মাটিতে?
শোয় তো নিশ্চয় তবে মাটিতে নয়, ডিভানে।

পেটমোটা ক্ষুদে ক্ষুদে মালভূমি নজরে আসবে। তার তাদের ভেতরে ঝিকিমিকি দিয়ে চেনা আসবাবের অচেনা টুকরোরা গা ঘেঁসাঘেঁসি শুয়ে বসে তাও নজরে আসবে। সে ভারী শিরশিরে অবাক করা জগত। বানানোর চাবিকাঠি তোমার হাতেই। কিন্তু একবারটি তৈয়ের হলেই নজর তোমার বন্দী তাদের রাজ্যে। চাবিকাঠির মালিকানা বদলে যাবে, উমান পাবে না।

আজকাল কি সেরম চাবিকাঠির চল আছে?
লকের চল আছে তবে চাবি তাতে কমই লাগে।

অনেক ভ্যানতাড়া হল। এবারে ঝেড়ে কাশো বাপু। বলতে কী চাও, শুনি?

আজ দেখলাম বুঝলে, বৃষ্টি শেষে, সেই আঠার মত আলো।
পুব আকাশের একদিক শ্লেট কিন্তু আরেকদিকে নীলের ঢেউ জাগছে, সার্চ লাইটের মত ফিনকি ফিনকি আলোর তার হিলহিলিয়ে পড়ছে।
এদের কাজকর্মের মাঝেই কোন ফাঁকতালে গলিঘুঁজি গলে বেরিয়ে এসেছে সেই রূপকথার আঠালো আলো।

আমগাছের ওই দাহশেষে জল ফোস্কা ওয়ালা পোড়া কাঠের মত ভেজা দক্ষিণমুখী মরা ডালটাকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে উঠতে চাইছে আরও উপরের পিঁপড়ে খাবলানো রক্তাল্পতায় ভোগা ডিগডিগে ন্যাতা পাতাগুলোর সিঁথিতে। কুরূপা প্রকৃতির গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছে সুরূপা প্রকৃতি। কী অপার্থিব মায়া!

বহুদিন যাবৎ খুব জ্বরে পড়ে থাকা খোকাখুকুর গায়ে মাথায় মায়ের হাত বুলিয়ে সোভিয়েত দেশের গল্প গুলো খুব খুব আস্তে আস্তে বলতে বলতে বার্লি খাওয়ানোর ছবিটা দেখলাম, জান?

ভালবাসাবাসি আলো। আদর আদর আলো।
দেখলাম।

ধ্যাত্তেরিকা! সাত কাহনে এই খ্যাটন!
ডাক্তার দেখাও বুঝলে, চোখের ডাক্তার আর সঙ্গে মাথারও। তোমার না পরীক্ষা সামনে???

Sunday, July 15, 2018

বেওকুফ অওরত!

Teri surkh surkh aankhien,yeh batah rhi hain Ghalib,
Phir subho kar di tune, usay yaad karte karte.
    -Mirza Ghalib

একটা ঘন বুনোট পাতার বুক আর ঠোঁট, অল্পে অল্পে জমাতে থাকে রিজিকের চাতকজল।
টইটম্বুর হলেই নিজেকে আলতো নুইয়ে ভরাতে যায় কোল ঘেঁষা ঈষৎ মেঘুয়া পাতাটাকে।
হয়তোবা দুঃখপুকুরই দেয় নিজের অজান্তেই, কিন্তু তার সর্বস্বান্ত দেওয়ার ঈহা মিছে নয়।
আকাঙ্ক্ষীর আর্তি তাই আশরীর ধারণ করে দয়িতের গূঢ়-বাঞ্ছা প্রতিকল্প, সিক্ত হয়।
দোঁহার এই ইচ্ছেসুখ আর প্রাপ্তিসুখ নির্নিমেষ গড়ে তৃপ্তিসুখের একঢাল চর।
দুইয়ের হৃদ মাঝারে। গোধূলি-বেলায় ধারাস্নাত মিহি বোধ-ধূলির উঠোনে।
...
একটি লেফাফা পড়ে থাকে কেবল।
হয়তো আর্চিজ, কিম্বা হলমার্ক।
...
"বহুদিন পরে ভ্রমর এসেছে পদ্মবনে।"
...
রাতটা এখন একটা, বা হবে হয়তো দুইদেড়।
ধড়মড়িয়েই উঠে বসল তাঁর মন।
কে যেন কবে এই কথাটা তাঁকেই দিয়েছিল।
দেখাবে ফুলেল সেই স্বর্ণচম্পা বন।

একফালি এলানে জরিন সুতোলে পথ।
পরাগ ঢেউয়ে গন্ধবহ'র রাজ।
কারোরই কিন্তু ছিল না, একটুও মত।
মরুৎ তবু পথের প্রেমিক আজ।
...
খেলা ভাঙন, স্বপ্নে সুর্খ সিঁথির আখরি রুখসত।
স্মরণে এল, কবিতা লিখছে। বেওকুফ অওরত।
...
"সখী অন্য ঘাটে চল না।"

Dard aayega dabbay paon liye surkh chiragh
    -Faiz Ahmed Faiz